
গণিতের জাদুকর রামানুজনের জন্মদিন আজ
Farhan Sadiqক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ২২শে ডিসেম্বর, আর এই দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন গণিতের সেই কিংবদন্তি জাদুকর—শ্রীনিবাস রামানুজন।
রামানুজন নামটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এমন একজন মানুষ, যার কাছে অঙ্ক কোনো ভীতিকর বিষয় ছিল না, বরং ছিল শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। তিনি কোনো বড় ডিগ্রিধারী পণ্ডিত ছিলেন না, ছিলেন আমাদের মতোই সাধারণ। কিন্তু তার ছিল এক অসাধারণ জেদ আর অঙ্কের প্রতি অদ্ভুত ভালোবাসা। খাতা-কলম বা স্লেট-পেন্সিল হাতে পেলেই তিনি হারিয়ে যেতেন সংখ্যার রাজ্যে। তার কাছে একেকটা ইকুয়েশন ছিল একেকটা কবিতার মতো।
মাত্র ৩২ বছরের ছোট্ট একটা জীবন। অথচ এই অল্প সময়েই তিনি গণিত জগতকে এমনভাবে নাড়িয়ে দিয়ে গেছেন যে, আজও বড় বড় গণিতবিদরা তার কাজ দেখে অবাক হয়ে যান। ইনফিনিট সিরিজ বা নাম্বার থিওরি নিয়ে তিনি যা ভেবেছেন, তা সে যুগে কল্পনারও বাইরে ছিল। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, যদি প্যাশন থাকে আর শেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা অভাব-অনটন কোনোটিই কাউকে আটকে রাখতে পারে না।
আজ তার জন্মদিনে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে একটাই বার্তা—অঙ্ককে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রামানুজন কিন্তু বইয়ের সিলেবাস মুখস্থ করে বড় হননি, তিনি বড় হয়েছেন কৌতূহল দিয়ে। তিনি ভাবতেন, প্রশ্ন করতেন এবং নতুনের খোঁজ করতেন।
আমরা চাই, আমাদের ক্লাবের প্রতিটি স্টুডেন্ট সেই সাহসটা নিজের মধ্যে নিয়ে আসুক। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যে জ্ঞানের একটা বিশাল জগত আছে, সেখানে উঁকি দেওয়ার সাহস করো। মুখস্থ না করে বিষয়টাকে ভালোবাসতে শেখো। কে জানে? হয়তো তোমাদের মাঝেই লুকিয়ে আছে আগামীর কোনো রামানুজন, যে বিশ্বকে আবারও অবাক করে দেবে!
চলো, আজ আমরা সবাই মিলে এই জিনিয়াস মানুষটাকে স্মরণ করি, আর প্রতিজ্ঞা করি—আমরা শিখব, জানব এবং নতুনের খোঁজ করব।
হ্যাপি বার্থডে, রামানুজন!